রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক বর্তমানে দেশের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকায়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৬৬.১৫ শতাংশ। এককভাবে বেক্সিমকো, অ্যাননটেক্স, এস আলম, ও ক্রিসেন্ট গ্রুপ এই ঋণের বৃহৎ অংশ খেলাপি করেছে। বেক্সিমকো গ্রুপ জনতা ব্যাংকের মূলধনের ৯৮৭.৪০ শতাংশ ঋণ নিয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একইভাবে অ্যাননটেক্স ৩৩৫.৫০ শতাংশ, এস আলম ৩৩৫.১০ শতাংশ, এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপ ৮৯.৭০ শতাংশ ঋণ নিয়েছে। অথচ একক গ্রাহকের ঋণসীমা মূলধনের ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকার কথা।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, “জনতা ব্যাংক ছিল সরকারি খাতের অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গত এক দশকে এটি ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয়েছে। এসব ঋণের বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং তা আর ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই।” সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, “জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, এটি কোনো সুশৃঙ্খল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সম্পদ লুটপাটের খোলা জায়গায় পরিণত হয়েছে। এই অনিয়মে গ্রাহক, ব্যাংকার, এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সমানভাবে দায়ী।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, সার্বিকভাবে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণই মোট খেলাপির ৭১ শতাংশ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিশেষত, জনতা ব্যাংকের এই বিপর্যয় পুরো ব্যাংক খাতে আরও সংকট তৈরি করতে পারে। আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী খেলাপি ঋণ ২০২৬ সালের মধ্যে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে না পারলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এখন সময় এসেছে ব্যাংকিং খাতে কঠোর সংস্কার এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। তা না হলে আর্থিক খাত আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।


