২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বিস্ফোরক আইনের মামলায় আড়াই শতাধিক আসামি জামিন পেয়েছেন। রোববার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ইব্রাহিম মিয়া শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন, যেখানে বলা হয়, বিস্ফোরক মামলায় আসামিদের দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা হয়েছে, যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বোরহান উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় কতজন জামিন পেয়েছেন, তবে সংখ্যাটি আড়াই শতাধিক হতে পারে।
জামিন পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া এবং হাইকোর্টে সাজা বাড়ানো ১৫ জন ছাড়া বাকি মুক্তিপ্রাপ্তরা। এদিন সকাল থেকেই কারাগারের সামনে স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রিয়জনদের জামিনের অপেক্ষায় তারা প্রার্থনা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনা দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তোলে। বিদ্রোহের পর বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি রাখা হয় এবং বাহিনীর পোশাকেও আসে পরিবর্তন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালে বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ শুরু হলেও হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কারণে কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। ২০১৩ সালে হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হত্যা মামলার রায়ের পরেও বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ জন আসামির মুক্তি আটকে যায়। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখা হয়। তবে ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ বিচারের প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরক মামলার আসামিদের অবশেষে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে এখনও আলোচনা চলমান।


