দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য চাকরি হারানোর মুখে রয়েছেন। এ তালিকায় আছেন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে এই কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ডিআইজি পর্যায়ের একজন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাতজন, পুলিশ সুপার দুজন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একজন এবং কনস্টেবল পর্যায়ের ১৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ছুটিতে অতিবাস, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও অন্যান্য কারণে অনুপস্থিত আরও বেশ কয়েকজন সদস্য তালিকায় আছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানিয়েছেন, “যারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং গরহাজির তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাকরির শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তালিকায় থাকা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অতীতে তার মারমুখী আচরণ এবং আলোচিত পদক্ষেপের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পুলিশি অভিযানের সময় আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকার সময় নানা বিতর্কে জড়ান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হারুনসহ আরও অনেক পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অনুপস্থিত সদস্যদের নামে মামলা ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হলেও অধিকাংশ নোটিশ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। নানামুখী চাপে এখন আর অফিসে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। নোটিশ পেলে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতাম।”
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় নতুন তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।


