ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত অপরাধ রোধ ও সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে ভারত একটি অপরাধমুক্ত সীমান্ত চায়। শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল। জসওয়াল বলেন, “আমরা ইতিবাচক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে। আমরা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” তিনি আরও জানান, সীমান্ত বেড়া নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে। “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, পাচার, এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কাঁটাতারের বেড়া, লাইট ও প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর,” যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিজিবি এর বিরোধিতা করলে বিএসএফ আপাতত কাজ বন্ধ রাখে। এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে। ভারত দাবি করেছে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ২০১১ সালের একটি চুক্তির ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ জানায়, সাবেক সরকারের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ঢাকা সফর করেন। জসওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত। দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।” সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দুই দেশই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অপরাধমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করার জন্য কেবল কাঁটাতারের বেড়া নয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


