গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১১নং গিদারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকাগুলোতে রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিদিন অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা ট্রাক্টর ও কাকড়া গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছে। এই কার্যক্রম শুধু পরিবেশ নয়, জনজীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ভাঙনপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি, বসতভিটা এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে ধুতিচোরা, আনালের ছড়া এবং গোড়াইয়েন এলাকায় শত শত বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তার উপর এই অবৈধ উত্তোলন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
এলাকার রাস্তা ঘাটও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের কারণে সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে কাকড়া গাড়ির বিকট শব্দে রাতে কেউ স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছে না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে আশপাশের পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ধুলাবালিতে এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তারা আরও বলেন, এই অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসন জ্ঞাত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা তাদের হতাশ করেছে। সচেতন মহল মনে করেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। প্রয়োজন হলে নিয়মিত নজরদারি, অভিযানের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কঠোর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ, জনজীবন এবং এলাকার উন্নয়ন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।


