সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া, গত ৯০ দিনে দেশের আশপাশে ৫০টির বেশি ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের ভূমিকম্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পপ্রবণ ২০টি শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা। ভৌগোলিক অবস্থান এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বাংলাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং মিয়ানমার মাইক্রো প্লেটের মধ্যে ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে। প্রতিবছর এসব প্লেট ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত সরে যাচ্ছে, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গত ৭ জানুয়ারি তিব্বতে রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতের কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘‘যদি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সীমান্ত এলাকায় হয়, তবে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে।’’
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘‘দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকলেও সচেতনতা এবং প্রস্তুতি এখনো খুবই কম। ভবনগুলোতে ভূমিকম্প প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইনগুলো অপরিকল্পিত হওয়ায় ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বাড়তে পারে।’’ বিগত শত বছরে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের শক্তি সঞ্চিত হয়েছে। কোনো বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকাসহ সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মেরামত এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সরকারের উচিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জরুরি সেবা খাতকে শক্তিশালী করা, যাতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।


