বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেনের আদালতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেন।
আদালতে কাজী জাফর উল্যাহর পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, কাজী জাফর উল্যাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এই মামলায় তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে জানায়, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এ ধরনের ঘটনায় কোনো আসামির জামিন দেওয়া উচিত নয়। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর কাজী জাফর উল্যাহকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ বহাল রাখা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় মকবুল হোসেন নামের এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। ওই সংঘর্ষের পর পুলিশ বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। ঘটনায় আরও কয়েকজন বিএনপি কর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে এক বিএনপি নেতা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় কাজী জাফর উল্যাহর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন কাজী জাফর উল্যাহ। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বিএনপি অভিযোগ করছে, সরকার তাদের নেতাকর্মীদের দমন করার জন্য রাজনৈতিক মামলা দিচ্ছে এবং বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হয়রানি করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, এই মামলাগুলো আইন অনুযায়ী হয়েছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই। এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। বিএনপি একাধিকবার কাজী জাফর উল্যাহসহ গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি দাবি করলেও সরকার বলছে, আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী বিচার চলবে।


