দেশের বিতর্কিত বহু স্তর বিপণন (এমএলএম) প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এক যুগের বিরতির পর আবারও ব্যবসায় ফিরতে চায়। সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে কোম্পানির ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়।২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা ডেসটিনি ২০০০ প্রথম এক দশক সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছিল। তবে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে পরবর্তী এক দশক বন্ধ থাকে তাদের কার্যক্রম। ৪৫ লাখ গ্রাহক নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সেই সাফল্য, কোম্পানির বর্তমান সদস্যরা মনে করছেন যে, এখনও ডেসটিনির অনেক সম্পদ রয়েছে যা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ১৯ সদস্যের পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আদালতের নিয়োগ করা চেয়ারম্যান প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, যিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে কোম্পানির নবযাত্রার জন্য সবার সমর্থন কামনা করেন।অনুষ্ঠানে ডেসটিনি ২০০০ এর নবযাত্রার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দেওয়া হবে তবে তা ব্যবসা এবং সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে নয়, বরং নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করে। কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করবেন এবং সেই অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন। এ ব্যাপারে বিশেষ অতিথি এম এ আজিজ উল্লেখ করেন, ডেসটিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ডেসটিনি ২০০০ এর বিরুদ্ধে ২০১২ সালে দুদক অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল। এর ফলস্বরূপ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা, including রফিকুল আমীন এবং সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন অর রশীদ, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, সেই সব মামলা এখন প্রায় শেষ হওয়ার পথে। ডেসটিনির কর্মকর্তারা তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসেবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম দেশের বিভিন্ন স্থানে অলাভজনক ফুড ব্যাংক স্থাপন। আশরাফুল আমীন, কোম্পানির এক কর্মকর্তা, জানিয়েছেন যে তারা গ্রাহকদের জন্য ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করবেন এবং এতে কোনও সম্পদ বিক্রি করা হবে না।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের হতাশা দেখা গেলেও, তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন ব্যবসার মাধ্যমে তাদের টাকা ফেরত আসবে। অনুষ্ঠান শেষে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রফিকুল আমীনের আত্মীয় আশরাফুল আমীন জানান, কোম্পানির পুরনো গ্রাহকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেসটিনি ২০০০ এর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং আরও বেশি গ্রাহককে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবেন। ডেসটিনির এই নবযাত্রা, তাদের পূর্ববর্তী দৃষ্টিকোণ থেকে এক বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, এবং গ্রাহকরা আশা করছেন যে, তাদের ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া দ্রু ত সম্পন্ন হবে।


