নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের ১৫২ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে তিন মাসের বেতন ফেরত চেয়েছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয় থেকে ইসিকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কোষাগারে অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ ফেরত দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। ইসির সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত বেতন ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে ১৫২ জন কর্মকর্তাকে ১০ বছর পূর্তির পর ৬ষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, উচ্চতর স্কেল প্রাপ্যতার তারিখ ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রথম চিঠিতে ৬ষ্ঠ গ্রেড প্রাপ্যতার তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয় চিঠিতে এ তারিখ সংশোধন করে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ করা হয়। তার ফলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তিন মাসের জন্য অতিরিক্ত বেতন গ্রহণ করেছেন।
চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত বেতন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যেই এই অতিরিক্ত বেতন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়ে কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই বেতন সংশোধনের বিষয়টি আগে থেকে অবহিত করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
বিশ্লেষকদের মতে, বেতন সংক্রান্ত এই ভুল বোঝাবুঝির পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়মতো নির্দেশনা না দেওয়া বড় কারণ। যদিও নির্বাচন কমিশন বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছে বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে এই বেতন ফেরত দেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত অর্থ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


