বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বোরাক রিয়েল এস্টেটের প্রস্তাবিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি এবং সম্ভাব্য মুনাফা ও লভ্যাংশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসি মনে করছে, প্রস্তাবিত মূল্য ও আর্থিক তথ্য অনুযায়ী বোরাক রিয়েল এস্টেট পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক অবস্থানকে কৃত্রিমভাবে লাভজনক দেখিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নগদ অর্থ প্রবাহ ছাড়াই মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে।
বিশেষ করে, কোম্পানিটি ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে যে মুনাফা দেখিয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আনরিয়ালাইজড মুনাফা দেখানোর মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএসইসি। কমিশনের মতে, প্রকৃত নগদ অর্থ প্রবাহ না থাকায় বোরাক রিয়েল এস্টেট তাদের শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারবে না। যদি লভ্যাংশ দিতে হয়, তবে সেটি কেবল কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর মাধ্যমেই সম্ভব হবে।
এ ছাড়া, কোম্পানিটির ২০২২ এবং ২০২৩ সালের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) সম্পর্কেও বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের ৩০ জুন কোম্পানির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৯ পয়সা। অথচ ২০২৩ সালের ৩০ জুন এই মুনাফা দেখানো হয়েছে ৬৫ টাকা ২৫ পয়সা।
বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী, ৭০০ কোটি ২০ লাখ টাকা বাদ দিলে প্রকৃত ইপিএস দাঁড়ায় মাত্র ৪ টাকা ৬৪ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটি অসত্য তথ্য দিয়ে মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছে, যা তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলবে।
বিএসইসি আরও জানিয়েছে, কোম্পানির ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বোরাক রিয়েল এস্টেটের আইপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।


