দেশে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচকগুলোতে অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আমানত কমেছে এবং তারল্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গত তিন মাসে এই সংকট ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির পেছনে সুশাসনের অভাব ও অনিয়মকে দায়ী করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব এবং কিছু অনিয়মের কারণে গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে, যা আমানত হ্রাসের মূল কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সুশাসন নিশ্চিত করা হলে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে এবং সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুনে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৪৪ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকায়। এ সময়ের মধ্যে আমানত কমেছে প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা বা ২ শতাংশ। বিনিয়োগের স্থিতি বেড়েছে মাত্র দশমিক ৪২ শতাংশ, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য যথেষ্ট নয়।
তারল্যের ক্ষেত্রেও অবনতি ঘটেছে। গত জুনে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৬১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তিন মাসে তারল্য ১০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা বা সাড়ে ৯৮ শতাংশ কমেছে।
যদিও অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে, ইসলামী ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ভালো করছে। আমদানি কার্যক্রমেও অগ্রগতি রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর প্রতি সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত হলে ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং আর্থিক সংকট দূর হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নীতি মেনে পরিচালনা করা অপরিহার্য। এ ছাড়া বিনিয়োগ নীতিমালা সংস্কারও জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।


