সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দিয়ে বিদ্রোহীরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ৫০ বছরের পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলেও, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট আল-আসাদের পতনের কথা নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিরিয়ার এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্রেন্ট ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৬ সেন্ট বা ০.৫১ শতাংশ বেড়ে ৭১.৪৮ ডলারে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩৮ সেন্ট বা ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে ৬৭.৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মিতসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটিংয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তোমোমিচি আকুতা বলেছেন, “সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সাময়িকভাবে তেলের দাম বেড়েছে। তবে সৌদি আরবের তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাজারের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।”
বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরামকো এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আগামী মাসের তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ২০২১ সালের শুরুর দিকের পর এভাবে দাম কমানো হয়নি। এর মূল কারণ চীনে তেলের চাহিদা কমে যাওয়া।
অপরদিকে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা আগামী তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই জোট বিশ্বজুড়ে তেলের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সিরিয়ার পরিস্থিতি ও ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত মিলিয়ে তেলের বাজার সামনের দিনগুলোতে আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।


