গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এক সময় রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৪ বিলিয়নে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘টিপিং পয়েন্টস অব রিফর্ম এজেন্ডা’ সেমিনারে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমানত বাড়াতে না পারি এবং অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়, তবে ব্যাংক ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।”
গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জুনের মধ্যে এটি ৭ শতাংশে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৫ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি ৪-৫ শতাংশে স্থিতিশীল রাখাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে সবজি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে। তবে শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। মূল্যস্ফীতি কমানোর মাধ্যমে ব্যাংকের সুদ ও নীতি সুদহার কমানো হবে।
সেমিনারে ব্যাংক খাতের লুটপাটের প্রসঙ্গ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। ব্যাংকাররা দাবি করেন, লুটপাটের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের সামনেই আমানতকারীদের টাকা লুট করা হয়েছে।
একজন ব্যাংকার অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমে তদবির চালিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করেছেন।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। একাধিকবার চিঠি দিয়েও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ব্যাংক খাতের সংস্কারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও দায়িত্বশীল ও সজাগ হতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাট সম্ভব হয়েছে।” ব্যাংক খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তিনি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।


