নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে ‘নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন’। প্রস্তাবিত বিধানে দলীয় প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট দলের অন্তত তিন বছর সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। সেই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুপারিশও প্রয়োজন হবে। এ বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এ সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর করার সুপারিশ করছে কমিশন।
কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপ এক দলে মনোনয়ন না পেয়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করবে। ফলে মনোনয়ন বাণিজ্যও কমবে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের মতোই, বর্তমান কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে চায়।
অন্যদিকে, নির্বাচনে ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোট পড়ার ন্যূনতম হার নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে। ২০২০ সালের ঢাকা-১০ উপনির্বাচনের মতো অল্প ভোটের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি বন্ধে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ভোট না পড়লে নির্বাচন বাতিল হতে পারে।
কমিশন আরও সুপারিশ করছে নির্বাচন ব্যবস্থায় ‘না’ ভোট পুনঃপ্রবর্তনের। এতে ভোটাররা অগ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন, এবং ‘না’ ভোট অধিক হলে পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা হবে। এটি রাজনৈতিক দলগুলিকে আরও জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে উৎসাহিত করবে।
প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের তালিকায় রয়েছে।
কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করা হবে। এ মাসেই কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা নিশ্চিত হবে।


