লেবাননে চলমান সংঘাতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের যোদ্ধাদের সংঘর্ষে ১,১৬০ জন সেনা হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নিহত এবং ১,০৫০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। এছাড়া, ইসরাইলের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি মেরকাভা ট্যাংক, ৯টি সামরিক বুলডোজার, ২টি হামার গাড়ি, ২টি সাঁজোয়া যান এবং ২টি সৈন্যবাহী যান রয়েছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা ৬টি ‘হারমেস ৪৫০’ ড্রোন, ২টি ‘হারমেস ৯০০‘ ড্রোন এবং ১টি ‘কোয়াডকপ্টার’ গ্লাইডার ধ্বংস করেছে।
এদিকে, ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৩,৫৪৪ জন নিহত এবং ১৫,০৩৬ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতে শুধু সেনাবাহিনী নয়, বেসামরিক জনগণও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের বসতবাড়ি, হাসপাতাল এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। লেবাননের সাধারণ মানুষদের মধ্যে খাদ্য, পানীয় এবং চিকিৎসা সহায়তার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংঘাত বন্ধে তৎপর হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। লেবাননের মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে এই সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে লেবাননের জনগণ গভীর মানবিক সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে, এবং মানবিক সহায়তার জন্য দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


