নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইসরাইলের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সাবেক আরকানসাস গভর্নর ও রক্ষণশীল রাজনীতিক মাইক হাকাবিকে নিয়োগ করা হবে। হাকাবি ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিষয়ে কঠোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের সমর্থনে তার অবস্থান বিতর্কিত। তিনি এই নীতি সঠিক বলে মনে করেন, যদিও বিশ্বের অনেক দেশ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে মনে করে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক বিবৃতিতে বলেন, “মাইক হাকাবি ইসরাইলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখান, এবং ইসরাইলের জনগণও তাকে অনেক ভালোবাসেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন।”
হাকাবি তার রাষ্ট্রদূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইসরাইলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণের পক্ষেও ছিলেন, যা তাকে মার্কিন রাজনীতিতে একটি বিতর্কিত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। তার মনোনয়ন ইসরাইলের বসতি স্থাপন নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। হাকাবি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিলে, তার রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি আরও বেশি জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন নীতির ক্ষেত্রে।
এছাড়া, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মনোনয়ন ঘোষণা করেছেন। তিনি সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জন র্যাটক্লিফকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (CIA) প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন। এ ছাড়া, ফক্স নিউজের উপস্থাপক পিট হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তার দীর্ঘদিনের বন্ধু স্টিভেন উইটকফকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এমন পদক্ষেপগুলি মার্কিন কূটনীতির ভবিষ্যত দিকনির্দেশক হিসেবে গণ্য হবে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক যুগের সূচনা করতে পারে।


