বাংলাদেশে বর্তমানে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যার লক্ষ্য অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। এই অধ্যাদেশটি, যার নাম ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’, সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে এবং এখন গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের খসড়াটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দেশটির আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে। সিনিয়র আইনজীবীরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশটি মূলত সরকারের কার্যক্রমের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য আনা হচ্ছে। তবে এটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।
অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। এর আওতায়, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে গঠিত এই সরকারে প্রধান উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশের স্বনামধন্য ও গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি নিয়োগ করা হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী অন্য উপদেষ্টারা নির্বাচিত হবেন।
এছাড়াও, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়। এই সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে সংবিধান বা অন্য কোনো আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বর্তমানে অধ্যাদেশের খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, সরকারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে কিছু স্পষ্টতা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারের আকার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মূলত, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনে বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি নিযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনা থাকলেও, বিশেষত অধ্যাদেশের প্রশ্ন না করার বিধানকে কেন্দ্র করে, তা এখনো প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে এটি সরকারের ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।


