পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অনুমোদনহীন বিদেশি অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বোদা পৌরসভার একটি বহুতল ভবনে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বোদা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন ইমরান এবং থানার ওসি জামাল উদ্দিন। আটক ব্যক্তিরা হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার আমিরুল ইসলাম (৩৫), টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সেলিম মিয়া (৪২) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এলাকার সাজেদুল ইসলাম (২৯)।
তদন্তে জানা যায়, আমিরুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং এনএফটি নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তার প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু লোক এই ব্যবসায় যুক্ত হন। বৃহস্পতিবার সকালে ভবনটির নিচতলায় একটি অফিস উদ্বোধন করেন আমিরুল, যেখানে অনলাইনে আর্থিক লেনদেনের জন্য ‘ক্লাউড ট্রেডিং’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহৃত হতো। স্থানীয়রা বিষয়টি সন্দেহভাজন মনে করায় বিষয়টি যৌথবাহিনীকে অবগত করে।
যৌথবাহিনীর সূত্র মতে, অনুমোদনহীন এই অ্যাপটির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল, যা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনছে। ক্যাপ্টেন ইমরান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, এই অফিসে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিটকয়েন লেনদেনের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা বিদেশে পাঠানো হচ্ছিল। বিদেশি মুদ্রার লেনদেন দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই প্রতারণা বন্ধে আমাদের অভিযান চালানো প্রয়োজনীয় ছিল।”
তদন্তে আরো জানা যায়, অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতারিত গ্রাহকরা বিশ্বাস করেছিলেন তারা বৈধ আয়ের উৎসে যুক্ত হচ্ছেন। তবে মূলত এটি ছিল প্রতারণার ফাঁদ, যা আর্থিকভাবে লোকসানে ফেলেছে বহু মানুষকে। অ্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আটককৃত সাজেদুল ইসলাম জানান, “আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে এটি একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম এবং কিছু আয় করা যাবে। তবে আমি জানতাম না এর কার্যক্রম বৈধ নয়। আমাদের অনুরোধ ছিল খুবই সাধারণ—বন্ধুদের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, কিন্তু আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে বুঝতে পারিনি।”
অ্যাপটির দায়িত্বে থাকা আমিরুল ইসলাম স্বীকার করেন যে তারা মালয়েশিয়ার একটি প্রযুক্তি দলের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। “আমরা মূলত আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচালিত হচ্ছি। মালয়েশিয়া থেকে পরিচালিত আমাদের পরিচালক জ্যাক আমাদের নিয়মিত আপডেট দিতেন,” বলেন আমিরুল। তবে বৈধতার বিষয় নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয় থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের প্রতারণার বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয়, প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আমরা তাদের অনলাইন লেনদেনের সুরাহা করবো।”
অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


