ঢাকা, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪: রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে যে উত্তেজনা চলছিল, তা আপাতত স্তিমিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ছাত্র-জনতার এক মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এই সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শনিবার (২ নভেম্বর) সকালে উভয় পক্ষই তাদের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদের মশাল মিছিলটি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মিছিলে হামলা চালায়, যার ফলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে আবার কাকরাইল অভিমুখে মিছিল নিয়ে আসে এবং পার্টির কার্যালয় আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকেই কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বনানী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের অভিযোগ করেন যে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দোসর নই। জাতীয় পার্টি সবসময় নিজস্ব নীতিতে বিশ্বাসী।” একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, শনিবার যেকোনো মূল্যে দলের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঘোষণার পরপরই, ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, তারা জাতীয় পার্টিকে কোনোভাবেই সমাবেশ করতে দেবে না। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “জাতীয় পার্টির সমাবেশ মানে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করা এবং আমরা তা প্রতিহত করব।” এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শুক্রবার বিকেলে ঘোষণা করে, কাকরাইল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপির এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতীয় পার্টি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ উভয় পক্ষই তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আমরা আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” অন্যদিকে, ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, তারা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছে, তবে সময়মতো নতুন পদক্ষেপ নেবে।
আজ সকাল থেকে কাকরাইলের জাতীয় পার্টির কার্যালয়টি পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা রয়েছে। পুলিশের উপস্থিতির কারণে সেখানকার পরিবেশ শান্ত থাকলেও সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকদের প্রবেশও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আপাতত স্তিমিত হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে, তাতে ভবিষ্যতে আবারো সংঘর্ষ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা রয়েছে।


