বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা ঢাকার একটি আদালতে দায়ের করা মানহানি মামলায় খালাস পেয়েছেন। রোববার (২০ অক্টোবর, ২০২৪) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক আরাফাতুর রাকিব এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার পটভূমি হলো ২০১৯ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় তারেক রহমান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। এর ফলে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিক এই বক্তব্যকে মানহানিকর দাবি করে তারেক রহমান ও বিএনপির অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে এবং আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
মামলায় তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযুক্ত ছিলেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলছিল, তবে বাদীপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে না পারায় মামলা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
তারেক রহমানের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেজবাহ গণমাধ্যমকে জানান, মামলাটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় এবং প্রমাণের অভাবে আদালত তাদের খালাস দেন। আইনজীবী মেজবাহ আরও বলেন, এই মামলার মূল ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী দলের নেতাদের হয়রানি করার জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এই রায়ে বিএনপি নেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলার বাদী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
এই মামলার রায় বিএনপির নেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জয় হিসেবে গণ্য হতে পারে, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চলছে।


