মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জরুরি বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি শুক্রবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে এ আহ্বান জানিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে সম্পদের পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের পেছনে ছাত্র-জনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছাত্র-জনতা একনায়কতন্ত্র ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, তাদের সাহস ও দৃঢ়তা সারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের যুব সমাজের আন্দোলন থেকে উদ্ভূত পরিবর্তন রাজনৈতিক অধিকার এবং উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারত্ব চেয়েছিল, যা দেশের আগামীদিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা। ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের দেশে মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে, ভয়-ভীতি ছাড়া সমাবেশ করবে এবং তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দেবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিনের মানবাধিকারের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বাংলাদেশ সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।
এছাড়া, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান যে, শান্তি রক্ষা এবং সংঘাত মোকাবিলায় জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা অত্যাবশ্যক।”
এভাবে, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এবং সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।


