টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা, যেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়, জেলার ১৭৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতিতে ১০ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা এবং থানায় প্রবেশ করায় সরকারি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা জোরদার করার দাবি উঠেছে।


