দেশে ছানিজনিত কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অন্ধত্বে আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছানি অপারেশনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা মানুষ সহজে চিকিৎসা পান।
সোমবার সচিবালয়ে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, ছানি অপারেশনের অভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনা মূল্যে এবং অন্যদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় ইনট্রা-অকুলার লেন্স (আইওএল) বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নভেম্বরে চক্ষু স্বাস্থ্য উন্নয়ন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশ এ সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বাংলাদেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ কর্মসূচিতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।


