মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় তাদের কান্নার দৃশ্য উপস্থিত জনতার মধ্যেও গভীর আবেগের জন্ম দেয়।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানান, বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জরুরি সেবা সংস্থাগুলোও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে প্রশাসনের ধারণা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মোসাল্লার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। তবে জনসমাগমের চাপ বিবেচনায় প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানে আয়োজিত সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা।


