ঋণ খেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর বিজয়ী হওয়ার নির্বাচনী ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দেন। এর মাধ্যমে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটলেও তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট দায়ের করলেও তা খারিজ হয়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পৃথকভাবে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশে স্থগিতাদেশ দেন। ফলে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলেও আসলাম চৌধুরীর ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি।
চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেন, ঋণ খেলাপি হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন কমিশনের তাঁর বিজয়ী হওয়ার ফল প্রকাশেরও সুযোগ থাকছে না।
আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আপিল বিভাগের এই রায় ভবিষ্যতে ঋণ খেলাপি প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রার্থিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচন-সংক্রান্ত পদক্ষেপে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।


