নতুন করবর্ষেও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড— এনবিআর।
এছাড়া এবারও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার প্রতিনিধি এ বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।
তবে চাইলে তারাও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন বলে রোববার এনবিআরের বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা প্রযুক্তিগত জটিলতায় অনলাইনে জমা দিতে না পারলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এবারও ম্যানুয়াল রিটার্ন জমার সুযোগ রেখেছে এনবিআর।
১ জুলাই থেকে নতুন করবর্ষ শুরু হচ্ছে, যেখানে চলতি আয়বর্ষের (গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত) আয়ের ওপর রিটার্ন জমা দিতে হবে।
নতুন করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণিতে সারাবছর রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে জমা দিলে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছে সরকার।
এজন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশোধন আনা হয়।
সেই হিসাবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার প্রথম প্রান্তিক যদি ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হয়, তাহলে ‘দ্রুত’ রিটার্ন দাখিলের জন্য ৫ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন। তবে ছাড়ের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।
তবে এই কর প্রণোদনা কীভাবে মিলবে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি অর্থবিলে; আয়কর বিশ্লেষকরাও এ নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন।
কোনো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা দ্বিতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে ছাড় পাবেন না। তবে অতিরিক্ত করও দিতে হবে না।
যদি তৃতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেন তখন, ‘বিলম্বে’ রিটার্ন দাখিলের জন্য জরিমানা দিতে হবে। সেই জরিমানা হবে করের দুই শতাংশ বা সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা।
শেষ প্রান্তিক বা ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দাখিল করলে এই জরিমানা হবে করের পাঁচ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা।
বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন করদাতা স্বাভাবিক নিয়মে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এর মধ্যে দাখিল করলে বাড়তি কর দিতে হয় না। এখনকার নিয়মে প্রণোদনারও সুযোগ নাই।
আইন অনুযায়ী, বিশেষ বিবেচনায় সরকার এক মাস করে সময় বাড়াতে পারে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সময় বাড়ানোর প্রবণতা প্রতি করবর্ষেই দেখা যায়। চলতি করবর্ষে সকলের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করায় বারবার সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছিল।
তাতেও যারা পারবে না তাদের জন্য ওই সময়ের মধ্যে আবেদন করে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ ছিল।


