স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বলেছেন, তারা বারবার সংস্কারের দাবি তুললেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সংসদে কার্যকর কোনো আলোচনা করেনি। বরং তাদের আগ্রহ ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার গঠিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে। তবে বিরোধী দল কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে কোনো গঠনমূলক আলোচনা বা মতামত দেয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এমএ মুহিত বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মহামারি ও অতিমারি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা। তুলনামূলকভাবে থাইল্যান্ডে এই হার প্রায় ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমস্যায় জর্জরিত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপান্তর করা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এমন একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজে এবং বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


