আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঘটনার পর তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক ও নিহত শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালের একটি কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পর্যাপ্ত বাতাস ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল ভবনের ভেতরে অনুমোদনের বাইরে একটি বেকারি পরিচালনা এবং দাহ্য বর্জ্য সংরক্ষণের মতো বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব অনিয়ম রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরকারের লক্ষ্য দেশের সব হাসপাতালকে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার আওতায় আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা বা নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। তবে লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়; সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা উচিত নয়। জনগণের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


