বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না বলে মনে করছে সরকার। তবে এ সুযোগে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শনিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বাজেট ঘোষণার আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পরিচালনা করেছে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়াতে হলে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো প্রয়োজন।
বর্তমানে বাজারে বিশেষ করে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়েও তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার কার্ড, কৃষক সহায়তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
নতুন বাজেটে আরও বড় পরিসরে পরিবার কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আসবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি বিদ্যুৎ বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


