এবারের ঈদুল আজহায় দেশে এক কোটিরও বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, দেশে এ বছর ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪টি পশু কোরবানির প্রাক্কলন করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ থেকে প্রাপ্ত চামড়া সংরক্ষণে লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় ৫৯ হাজার ৫৯০ টন। এর মধ্যে বিসিকের পক্ষ থেকে জেলাওয়ারি ৯ হাজার ৮১৯ টন লবণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তে দেশব্যাপী লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ চামড়া সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে জেলা পর্যায় থেকে চাহিদা কম আসার পাশাপাশি বরাদ্দ দেয়া মিলগুলোর ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৬৩ টন লবণ বিতরণ করেছে বিসিক।
জানতে চাইলে বিসিকের লবণ সেল প্রধান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিসিক ২০২৫ সাল থেকে দেশব্যাপী মাঠ প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করে আসছে। এ বছর ঈদুল আজহার একদিন আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।’ বিসিকের এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের ফলে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়েও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হয়েছে বলেও দাবি করেন এ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় বিসিক। শুরুতে ৩০ হাজার টনের পরিকল্পনা করা হলেও মাঠ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ১১ হাজার ৫৭১ টন সরবরাহ করা হয়। ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের ওই লবণ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়। তবে এবার দেশে লবণের উৎপাদন কম হওয়ায় ঈদুল আজহার আগে দাম বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিসিকের বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় লবণ বিতরণের পরিমাণ ১ হাজার ৭৫২ টন কমে ৯ হাজার ৮১৯ টনে নেমে আসে।
এ বছর দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ২২ হাজার টন। আর ১৮ মে পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ টনের কিছু বেশি। আগাম বৃষ্টিপাত ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাঠ ও মিল পর্যায়ে লবণের দাম বেড়ে যায়। এ কারণে ঈদুল আজহার সময়ে চামড়া সংরক্ষণে লবণ সংগ্রহ নিয়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।


