আলোচিত সাদা মহিষকে কেন্দ্র করে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের জেরে কিউরেটরকে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মহিষটির নামকরণ এবং পরিচিতি ফলকে নামের ভুল বানান ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কোরবানির জন্য কেনা আলোচিত মহিষটি পরবর্তীতে ক্রেতার কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে উদ্ধার করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়। চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় মহিষটির পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ নাম লেখা হয়। ফলকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো রাষ্ট্রনেতার নামে প্রাণীর নামকরণ কতটা যুক্তিসঙ্গত। পাশাপাশি নামের বানান ভুলও সমালোচনার নতুন মাত্রা যোগ করে। বিতর্ক বাড়তে থাকলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ফলকটি পরিবর্তন করে এবং পরে মহিষটির নাম বদলে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, মহিষটির নামকরণ শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। যে কারণে প্রাণীটি কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, পরে একই নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করাও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে নামের ভুল বানান পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তোলে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শুধু বানান ভুল নয়, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নাম ব্যবহার এবং পরে সেটি ভুলভাবে উপস্থাপনের ঘটনাকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট কিউরেটরকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি প্রশাসনিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাণীর নামকরণ ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।


