পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের চামড়া খাতে এবার নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর পাশের সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া কাঁচা চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে রেকর্ড পরিমাণ চামড়া জমা পড়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল পর্যন্ত শিল্পনগরীতে হাজার হাজার ট্রাক চামড়া নিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া ট্যানারিতে পৌঁছেছে।
বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত এক হাজার ৫১৯টি ট্রাকে করে প্রায় চার লাখ ৯২ হাজার চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই গরু ও মহিষের চামড়া। এছাড়া ছাগল ও ভেড়ার চামড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এসেছে।
তিনি বলেন, ঈদের প্রথম দিন রক্তযুক্ত কাঁচা চামড়া বেশি এসেছে। এখন ধীরে ধীরে লবণযুক্ত চামড়া আসা শুরু হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চামড়া সংগ্রহ হওয়ায় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদের দিন সন্ধ্যায় আমিনবাজারে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, চামড়া পাচার রোধে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং সংগ্রহকেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। ফলে দেশের বাইরে চামড়া পাচারের সুযোগ নেই বললেই চলে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। জুতা, ব্যাগ, বেল্টসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করলে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


