বাংলাদেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে তার ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত সম্প্রতি এই আদেশ দেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট (মোকাস) আদালতে আবেদন করে। এর ভিত্তিতে পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দোতলা বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংক থেকে নেওয়া বড় অঙ্কের ঋণের অর্থ জটিল করপোরেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে নিবন্ধিত কয়েকটি কোম্পানি ও ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশেও সাইফুল আলম ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি একটি ঋণ জালিয়াতি মামলায় আদালত তাকে ও তার ১০ সহযোগীকে কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার করা হয়নি।
তবে সাইফুল আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিদেশে তার সব বিনিয়োগ বৈধ উৎসের অর্থ দিয়ে করা হয়েছে এবং চলমান পদক্ষেপগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় আইনি লড়াইও শুরু করেছেন।


