ঈদুল আজহার শেষ মুহূর্তে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে গরুর দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেক খামারি ও ব্যাপারী বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করছেন। অনেকে আবার অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে গরু তোলা হচ্ছে। বিক্রেতাদের অনেকেই হতাশ মুখে হাট ছাড়ছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এবার পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে শেষ সময়ে দাম কমিয়ে বিক্রি করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
রাজধানীর বাইরে থেকে আসা কয়েকজন খামারি জানান, কয়েক মাস ধরে লালন-পালন করে আনা গরু বিক্রি করতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। কেউ কেউ বলেন, একটি গরুতে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয়েছে। আবার অনেকে ঋণ নিয়ে পশু কিনে হাটে এনেছিলেন। এখন কম দামে বিক্রি করেও সেই টাকা তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও কাদার কারণে হাটের পরিবেশও ছিল অস্বস্তিকর। এতে পশু অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় অনেকেই দ্রুত গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে দামের এই পতনে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। অনেক ক্রেতা জানান, ঈদের আগের কয়েক দিনের তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেউ কেউ আগের চেয়ে লাখ টাকার কাছাকাছি কম দামে গরু কিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কুরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত সরবরাহ ও শেষ মুহূর্তে কম ক্রেতা থাকায় বাজারে দামের এমন বড় পতন ঘটেছে।


