ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত আলোচনা সভায় উজানের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বিকেলে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি বলেন, গঙ্গা, তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদী বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই দেশের পানিস্বার্থ রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ফারাক্কা লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর ভাষায়, “ফারাক্কা আজ প্রতিবাদের একটি প্রতীকী শব্দে পরিণত হয়েছে।”
আলোচনায় উঠে আসে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ও। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পুরো জাতির স্বার্থের প্রশ্ন। তিনি গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে মরুকরণ ও লবণাক্ততার প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে উজানের পানিবণ্টন ইস্যুতেও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বহু আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত না হলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে। তিনি বলেন, ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তিই ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা।
সভাপতির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের পানির অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


