শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি বলেছে, এ ব্যবস্থার ফলে নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন। নিয়মিত করপ্রদানকারীদের জন্য এটি একটি শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কালো টাকার ওপর সর্বোচ্চ হারে কর আরোপসহ জরিমানার বিধান প্রবর্তন করার দাবি জানিয়েছে এমসিসিআই।
আজ বৃহস্পতিবার এমসিসিআইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজেট বাস্তবায়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে বাজেট ব্যবস্থাপনার গতিশীলতা, করনীতি সংস্কার, করব্যবস্থার অটোমেশন, কর সংগ্রহে সামগ্রিক সিস্টেম লস কমানো এবং কর প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো তথা জনগণকে যথাযথ সেবা দেওয়ার আরও সুযোগ রয়েছে। এমসিসিআই মনে করে, প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেটের একটি অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন হওয়া দরকার। সে অনুযায়ী বাজেট সংশোধন করা যেতে পারে।
এমসিসিসিআই বলেছে, আইএমএফের ঋণের শর্ত অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করতে গিয়ে করদাতাদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানোর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয় সীমিত করার জন্য যথাযথ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি মনে করে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিকে শ্লথ করে দিতে পারে।
পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভুত কোম্পানি এবং একক ব্যক্তির কোম্পানির করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব এমসিসিআই প্রশংসা করছে। তবে এ হার অন্যান্য কোম্পানির জন্যও কমানোর সুপারিশ করেছে।
করপোরেট করহারের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা না থাকায় এমসিসিআই হতাশা ব্যক্ত করে বলেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি বিবেচনায় এই শর্তাবলি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে কার্যকর করহার অত্যন্ত বেশি। এক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবসায়িক খরচ ও উৎসে কর কর্তনের হারকে যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে কার্যকর করহার কমাতে হবে।
ক্রমাগত মূল্যস্ফীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা না বাড়িয়ে বরং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নির্ধারণ করার প্রস্তাব এমসিসিআই পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। চেম্বার মনে করে, করদাতার সংখ্যা না বাড়িয়ে শুধু বর্তমান করদাতাদের করহার বাড়ালে আশানুরূপ কর জিডিপি অনুপাত অর্জন করা সম্ভব নয়।
এমসিসিআইর প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর করনীতির পরিপন্থী। এ প্রস্তাব বাদ দেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায় যদি লাভ হয় তাহলে শুধুমাত্র করযোগ্য আয়ের ওপর কর প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এমসিসিআই বিশ্বাস করে, ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করলে সামগ্রিক ভ্যাট সংগ্রহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। যতদ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ ভ্যাট ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে ইএফডির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় আওতা বাড়িয়ে সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির দৃশ্যমান আধিপত্য থাকায় তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ে কতটুকু সফলতা আসবে, তা বিবেচনার বিষয়।
ভ্যাট আইনের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পরামর্শ না থাকায় এমসিসিআই হতাশা জানিয়েছে। আপিল কমিশনারেট ও আপিতালাত ট্রাইবুনালে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ২০ শতাংশ জমাদানের পরিবর্তে ১০ শতাংশের বিধান প্রস্তাব প্রশংসা করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য কর অব্যাহতির সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাবেরও প্রশংসা করেছে। তবে আমদানি করা পণ্যসামগ্রীর সম্পূরক শুল্কের হার বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা করেছে।
প্রচলিত বাস ও ট্রাক অর্থাৎ, পরিবেশ দূষণকারী যানবাহনের ওপর আরোপ না করে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক মোটরযান ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি করেছে এমসিসিআই। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যাটারির অপসারণ ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা আবশ্যক বলে সংগঠনটি মনে করে।


