রাজধানীতে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক ও সম্প্রীতি উৎসবে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্য দেশের ঐক্য ও উন্নয়নের অন্যতম শক্তি। তারা মত দেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত “সম্প্রীতির বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের প্রতিটি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে বিভেদের নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।”
পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তারা তরুণ প্রজন্মকে বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ গঠনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। এতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।


