দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবার হাজার কোটি টাকা নিট মুনাফার ঘরে প্রবেশ করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।
দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর ঘোষিত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির নিট মুনাফার পরিমাণ ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। তৃতীয় ব্যাংক হিসাবে এবার পূবালী ব্যাংক হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফার ক্লাবে যুক্ত হলো। ৯০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করে একই ক্লাবে যুক্ত হওয়ার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা, প্রাইম ও ইস্টার্ন ব্যাংক।
পূবালী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংকটির আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ শতাংশের বেশি আর ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ; যেখানে দেশের ব্যাংক খাতে আমানত ও ঋণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১১ ও ৬ শতাংশ। গত ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির আমানতের স্থিতি ৯৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। একই সময়ে বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ছিল ৭২ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) প্রায় ৭৪ শতাংশ।
পোর্টফোলিওর বড় প্রবৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতির দৈন্যের মধ্যেও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে পূবালী ব্যাংক। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশ, যেখানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের গড় হার ৩০ শতাংশেরও বেশি ছিল।
রেকর্ড মুনাফার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাফল্যের মূল সূত্রই সর্বস্তরে করপোরেট গভর্ন্যান্স (সুশাসন)। ঋণ প্রদান, বিনিয়োগ, নিয়োগ, পদোন্নতি থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে সুশাসনের চর্চা হলে কোনো ব্যাংকই খারাপ হওয়ার কথা হয়। পূবালী ব্যাংকে সেটির চর্চা কার্যকরভাবে আছে। এ কারণে গত কয়েক বছর আমরা ধারবাহিক সাফল্য পেয়েছি।’
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি সব সময়ই গর্বের সঙ্গে বলি, কোনো ব্রিফকেস কোম্পানিতে পূবালী ব্যাংকের ঋণ নেই। নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমরা সেটিরই সুফল পেয়েছি। আগামী দিনগুলোতে পূবালী ব্যাংক আরো ভালো করবে।’
পূবালী ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।


