জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত এই সরকারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ সামনে এসেছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেম ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে সেই অর্জনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, একটি সরকার পরিচালনার জন্য শুধু উদ্যম নয়, অভিজ্ঞতা, দূরদৃষ্টি এবং বাস্তব দক্ষতা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে পরিপক্বতা জরুরি, যা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা দিয়ে অর্জন করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ‘বট’ বা ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকত, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, শুধু প্রচার নয়—বাস্তব নেতৃত্ব ও ত্যাগই একটি জাতিকে এগিয়ে নেয়।
সবশেষে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


