শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের মালিকানা কিনবেন আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পর নতুন পর্ষদ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি গতকাল এক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের (পিএসআই) মাধ্যমে জানিয়েছে ডমিনেজ স্টিল।
পিএসআইয়ে আরো জানানো হয়েছে, আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইস্পাত ও নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য পদচারণা রয়েছে। এ নতুন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ডমিনেজ স্টিলের উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু ও সমন্বয় করতে এবং সাম্প্রতিক সময়ের পরিচালনগত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বাস করে, এ অগ্রগতি এবং ক্রেতাদের বর্তমান স্টিল অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্তি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
ডমিনেজ স্টিলের কারখানার কার্যক্রমের অবস্থা যাচাই করতে গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি পরিদর্শক দল কোম্পানিটির সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে আশুলিয়া ইউনিটটি সচল থাকলেও পলাশ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ পান ডিএসইর কর্মকর্তারা। উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়ার পেছনে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ডিএসইর চিঠির জবাবে সম্প্রতি জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের জুলাই থেকেই ডিএসইতে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের ১৫ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০ টাকা ৬০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর বেড়ে ৬০ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর দেশের পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ২৬ লাখ। এর ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ৩২, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


