চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি এবং গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা এসব জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে এবং খালাস কার্যক্রম জোরগতিতে চলছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি করা এই জ্বালানি পণ্যগুলো দ্রুত দেশে পৌঁছানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি না হয়। জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে বন্দরের নির্ধারিত জেটি ও স্থানে নোঙর করে পণ্য খালাস শুরু করেছে। ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে আসা এসব জ্বালানিবাহী জাহাজে থাকা পণ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব পণ্য খালাস সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশেষ করে এলএনজি বহনকারী জাহাজটি ভাসমান স্টোরেজ ইউনিটে যুক্ত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের প্রক্রিয়া চালু করবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে এলপিজি ও গ্যাস অয়েল দ্রুত ডিপোতে পাঠানো হবে, সেখান থেকে তা সারাদেশে বিতরণ করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি পণ্য খালাসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে করে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো জ্বালানি আমদানি ও দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।


