সারাদেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং বগুড়াসহ দেশের বড় জেলাগুলোর হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং রোগীর চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি জেলার চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন বাড়তি জনবল ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আগামী ৫ এপ্রিল অর্থাৎ রবিবার থেকে দেশব্যাপী এক বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘরোয়া পরিবেশে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং প্রচুর তরল খাবার নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।
আগামী কয়েকদিন টিকাদান কর্মসূচি চলাকালীন অভিভাবকদের নিজেদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে এই গণটিকাদানের মাধ্যমে সংক্রমণের চেইন দ্রুত ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।