মানব পাচারের অভিযোগে করা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সময় স্বল্পতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ সম্পূর্ণ হয়নি। বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কতজন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে কতজন দেশে ফিরে এসেছেন, এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, পূর্বের রিমান্ডে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখানো হয়নি। তিনি আসামির বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে জড়িত থাকা।
মামলাটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা হয়। এতে সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ শতাধিককে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো চক্রের আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম উদঘাটনে আরও সময় প্রয়োজন।


