ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের যাতায়াত তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ব্যাপক সংখ্যক যাত্রী চলাচল সত্ত্বেও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজটের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। রোববার সচিবালয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি দুর্ঘটনা দুঃখজনক হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী ছাড়ে এবং পরে আবার ফিরে আসে। এত বড় চাপ সামাল দিতে গিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের ব্যথিত করেছে। তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমরা অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।” তিনি জানান, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দুর্ঘটনা কমাতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যাতে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার দায় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো একক পক্ষকে দায়ী না করে ঘটনাগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করা হচ্ছে। যেখানে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব পরিবহন কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে রুট পারমিট বাতিল বা নিবন্ধন স্থগিতের মতো সিদ্ধান্তও থাকতে পারে।
নিহতের পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী এবারের ঈদে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম। তবে কোনো মৃত্যুই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শূন্য দুর্ঘটনা। সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
আগামীতে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।


