ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টুপি, আতর ও জায়নামাজের বাজারে এখন জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, পল্টন ও নিউ মার্কেট এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের শেষ দিকে এসব পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানজুড়ে সাজানো রয়েছে নানা ডিজাইনের টুপি ও জায়নামাজ। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আতর ও পাথরের তসবিহ। ক্রেতারা পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে টুপি কিনছেন, আতরের ঘ্রাণ পরখ করছেন এবং জায়নামাজের দরদাম করছেন।
বাজারে তুর্কি, পাকিস্তানি ও চায়না জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। তুর্কি জায়নামাজের দাম ৪০০ থেকে ১২ হাজার টাকা, পাকিস্তানি জায়নামাজ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চায়না জায়নামাজ ৭০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আলম জানান, তিনি সাড়ে পাঁচশ টাকায় একটি তুর্কি জায়নামাজ কিনেছেন, যা নতুন ডিজাইনের হওয়ায় তার পছন্দ হয়েছে। অন্যদিকে রামপুরা থেকে আসা কামাল বলেন, ঈদের নামাজের জন্য পরিবারের সবার জন্য আতর ও টুপি কিনেছেন, তবে এবার আতরের দাম কিছুটা বেশি বলে মনে হয়েছে।
উর্মি এম্পোরিয়াম হাউজের দোকানি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ২৮ রমজান হওয়ায় দুপুরের পর থেকেই বিক্রি বেড়েছে। গত কয়েকদিন জায়নামাজ ও টুপি বেশি বিক্রি হলেও সন্ধ্যার পর আতর ও তসবিহর বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
বাজারে হোয়াইট, এলিটো, কোরাইশি, সুরগতি, ওধ, চকলেট মাস্ক সুলতান, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ বিভিন্ন ধরনের আতর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ফিগো, হ্যাভোক, সিকোয়ান ও গোল্ডেন সেন্ট নামেও আতর বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা আতর কেনার আগে হাতের ওপর লাগিয়ে সুগন্ধ যাচাই করছেন। ৩ মিলিলিটারের হোয়াইট ও ওধ আতর ১৫০ টাকা, সুরগতি ১০০ টাকা এবং এলিটো ও কোরাইশি আতর ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের আতর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কস্তুরি বা মেশক আম্বার প্রতি মিলিলিটার ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তুলনামূলক কম দামে দুবাইয়ের হারামাইন আতর ১৫ মিলিগ্রামে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


