মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে খালাস পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিরোধী দল অংশ নেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে। রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সংসদে আলোচনা আকারে তোলা হবে বলে জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই না হলে হয়তো ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারতাম না।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, তাদের অনেকেই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
একই অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন জামায়াতের দায়িত্বে ছিলাম, তখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তিনি দেশের স্বার্থে সব সময় আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন।’ খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের চলমান অধিবেশনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আলোচনা ও প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান এ টি এম আজ হারুল ইসলাম।


