রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এ বিদেশি স্টেশনে কান্ট্রি ম্যানেজার নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মে-জুনে পদায়ন হওয়ার কথা থাকলেও তা নানা কারণে পিছিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগকারীদের মতে, এই বিলম্ব ছিল ‘পরিকল্পিত’ এবং শেষ পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষাকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে ব্যবহার করে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্টেশনে অপেক্ষাকৃত কম সিনিয়র কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কারও ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক, কারও ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ ভূমিকা রেখেছে। এতে দীর্ঘদিন বিদেশি স্টেশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকা কর্মকর্তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পদোন্নতির ক্রম উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে বিমানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা অস্বচ্ছতা থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ায়। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিমানের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশি স্টেশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এখতিয়ার রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিতর্কিত পদায়ন পুনর্বিবেচনা করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।


