নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্ড বিতরণের আগে তিন স্তরের যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, মাঠপর্যায়ের সমাজসেবা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ যাচাই—এই তিন ধাপে পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্ড বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না থাকে।”
মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে পরিবারে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একীভূত করে একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা।
আসন্ন ঈদের আগে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সারাদেশে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণ করা হবে। এ উদ্যোগ তদারকির জন্য দুই জন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সরকারি সূত্র জানায়, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটির প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তায় পরিণত হবে।


