ভয় ও গুজব উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর মতে, এই নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। তিনি একে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখতে হবে।নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সারাদেশে রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে গুজব ও অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি নাগরিকদের যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, গুজব মোকাবিলার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো সত্য।
তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি মাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচন বন্ধু হটলাইন ৩৩৩-এর কথাও উল্লেখ করেন। ভাষণের শেষভাগে ড. ইউনূস বলেন, ভয় নয় আশা, উদাসীনতা নয় দায়িত্ববোধ এবং বিভক্তি নয় ঐক্যের শক্তি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে। তাঁর মতে, জনগণের ভোটেই রচিত হবে আগামীর গৌরবময় বাংলাদেশের ইতিহাস।


