বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নাম পুনর্বহাল, ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পে’ নীতি বাস্তবায়ন এবং পিলখানার ট্র্যাজেডির দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্মানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপির সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে বাহিনীর মূল পেশাগত দায়িত্ব ব্যাহত হয় এবং এর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। বিএনপি অতীতে যেমন সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি, ভবিষ্যতেও তা করবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের কাছ থেকে যে সুপারিশগুলো এসেছে—জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের সংস্কারসহ—এসব বিষয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে একটি সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পিলখানার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ওই ঘটনা শুধু একটি ট্র্যাজেডি নয়, বরং রাষ্ট্র ও সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত। এ ধরনের ঘটনার সঠিক মূল্যায়ন ও স্মরণ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার প্রত্যাশা।


